নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এবার উঠে এসেছে একটি প্রভাবশালী এনজিওর কর্মকর্তাদের নাম। ঢাকার আদালতে দায়ের হওয়া পৃথক দুটি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খ্রিষ্টীয়ান কমিশন ফর ডেভলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (CCDB)-এর বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পরিচালক পরিষদ, কর্মকর্তা ও কর্মী এই গণহত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা, অর্থায়ন এবং উস্কানিদাতার ভূমিকায় ছিলেন।
মামলা–১: মিরপুরে হত্যা ও অর্থ সহায়তার অভিযোগ- ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের হওয়া প্রথম মামলায় জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা ও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার নথিতে ২০৩ থেকে ২০৭ নম্বর সিরিয়ালে সিসিডিবি (CCDB) সংশ্লিষ্ট ৫ জনের নাম উঠে এসেছে: জুলিয়েট কেয়া মালাকার: আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে এবং জুলাই আন্দোলনে দমন-পীড়নে সরাসরি অর্থ সহায়তার অভিযোগ। ডেভিড অনীল হালদার: দলীয় কার্যক্রমে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং সরাসরি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ। ইভান পরাগ সরকার: মিরপুর এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া এবং হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। এডভিন বরুন ব্যানার্জি: ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী অর্থ যোগানদাতা হিসেবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ। পঙ্কজ গিলবার্ট কস্তা: আন্দোলনবিরোধী কর্মকাণ্ডে রাজপথে সক্রিয় অবস্থান এবং হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ।
উভয় মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, ড. হাছান মাহমুদ, রাশেদ খান মেনন, আমির হোসেন আমু এবং আনিসুল হকসহ আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের নাম রয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, সিসিডিবি-র এই কর্মীরা আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ছত্রছায়ায় থেকে জুলাই আন্দোলনে হত্যা ও দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত শেষে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনজিওর(CCDB) মতো একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পরিষদ ও কর্মরত থেকে কীভাবে তারা এমন ভয়াবহ সহিংসতায় জড়ালেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায় নি।






